নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাসান চর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালাতে গিয়ে সমুদ্রপথে জলদস্যুদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন ৩৬ রোহিঙ্গা। আজ (শনিবার) রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটায় সন্দ্বীপের সন্তোষপুর ইউনিয়নের ইলিশঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা এই রোহিঙ্গাদের দেখতে পান। পরে তাদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৪ শিশুসহ ৩৬ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে।
উদ্ধারকৃতদের তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন সন্দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্তোষপুরের বাসিন্দা ফছিউল আলম আমার দেশকে বলেন, ক্ষুধায় কাতরাতে দেখে আমরা গ্রামবাসী মিলে খাবারের ব্যবস্থা করেছি। বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের এই করুণ অবস্থা দেখে আমাদের খুব আফসোস লাগছিলো।
একাধিক উদ্ধারকৃতের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভাসান চর ক্যাম্পের হাশেম মাঝি নামক এক ব্যক্তির সহায়তায় তারা চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট নতুন ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার চুক্তিতে মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি নৌকায় ওঠেন। গন্তব্য ছিলো উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প। কিন্তু গত ৯ তারিখে যাত্রা শুরু করার পর তাদের পড়তে হয় চরম বিপাকে। ৫ দিনের এই দীর্ঘ যাত্রায় তারা ৩ দিন জঙ্গলে এবং ২ দিন নৌকায় কাটান। পথিমধ্যে তাদের একটি নৌকা বিকল হয়ে গেলে নতুন আরেকটি নৌকা আনা হয়। দীর্ঘ এই সময় তারা প্রায় অনাহারে ছিলেন বলে জানা যায়। শুক্রবার রাতে জলদস্যুরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে তাদের কাছে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। এরপর গভীর রাতে সন্দ্বীপের নির্জন উপকূলে নামিয়ে দিয়ে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
উদ্ধারকৃতরা হলেন- মোবারক (১৭), জমির হোসেন (১৭), আয়াস (১৩), জেসমিন আক্তার (১২), সাদেক (২), মো: রেদোয়ান (১১), সুফিয়া (৩), আসমা (৫), মরিয়ম (৮), ফারুক (১০), ফাতেমা (৮), রায়হান (৬), ওমর (৪), ওমায়ের (২), আয়াস (৮ মাস), শামীমা (৯), আনাছ (৫), জমির (১৬), জেসমিন (১২), জান্নাত (১০), মোশাররফ (৭), আবদুল্লাহ (৮), ফুফাইত (৪), নোমান (১৮ মাস), ইসলাম (৩৫), এরশাদ (২১), আজিম (৩৬), শামসুন্নাহার (২৭), বিবি আয়েশা (৪০), আরোফা (২৬), জোহরা (২৫), হালিমা (২৮), ইয়াসমিন (১৮), কাউছার (১৯), সাইফুল্লাহ (১৯) এবং আব্দুল আজিজ (২৯)।
সন্দ্বীপ থানা এবং উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাদের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি)-এর তত্ত্বাবধানে পুনরায় ভাসান চরে স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।